Home / BCS Tips / How do read BCS first Sushanta Paul

How do read BCS first Sushanta Paul

কী পড়েছেন, কীভাবে পড়েছেন বিসিএস প্রথম সুশান্ত পাল? জানুন তার মুখ থেকেই

আমাকে প্রায়ই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় : ভাইয়া, আপনি বিসিএস প্রিলির জন্য কোন কোন গাইড পড়েছেন? প্রশ্নটি আমি খুব কৌশলে এড়িয়ে যাই। কেন? আমি সত্যি কথা বললে কেউ কেউ ভাববে ভাব দেখাচ্ছি, কেউ কেউ ভাববে ফার্স্ট হয়েছি বলে বাড়িয়ে বলছি, কেউ কেউ ভাববে পাণ্ডিত্য দেখাচ্ছি।

 

যে যে গাইডের ফুল সেট প্রিলির আগে সলভ করেছি সেগুলির নাম নিচে দিয়ে দিচ্ছি : MP3 অ্যাসিউরেন্স ওরাকল মিলারস প্রফেসরস সাইফুরস পাঞ্জেরি জেনুইন এছাড়াও : ৩টা ডাইজেস্ট ২টা প্রশ্নব্যাংক ৪টা মডেল টেস্টের গাইড এগুলিই কেন? কারণ, এর বাইরে আর কোনো গাইড পাওয়া যেত না, কিংবা চট্টগ্রামের কোনো বইয়ের দোকানে পাইনি। উপরের বইগুলি ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন বই সলভ করেছি। যেমন, ইংরেজির জন্য ইংলিশ ফর দ্য কম্পিটিটিভ একজামস এবং আরেকটা বই (নামটা খুব সম্ভবত Light) সলভ করেছি।যারা ভাবছেন, অতো পড়াশোনা করা সম্ভব নয়, তাদেরকে বলছি, এটা সম্ভব যদি আপনার খেয়েদেয়ে করার মতন অন্য কোনো কাজ না থাকে। কেউ দয়া করে ভালবাসেনি, তাই প্রেম ছিল না। মানুষের ছেলেমেয়েকে মানুষ করার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছিলাম, তাই টিউশনিও ছিল না। অবিশ্বাস্য পরিমাণের টাকা লস দিয়ে সব রকমের ব্যবসা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম, অন্যকোনো কাজটাজও ছিল না। তাই প্রচুর পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার সন্তান পড়াশোনা করবে না তো কী করবে? ওই সময়ে পড়াশোনা করা ছাড়া পৃথিবীর যাবতীয় কাজকেই বিলাসিতা মনে হত। তাছাড়া বিসিএস নিয়ে কথা বলার মতন তেমন কারোর দেখা কখনওই পাইনি বিধায় (বিসিএস পরীক্ষার আগে মাত্র ৩ জন বিসিএস ক্যাডারের সাথে কথা বলার সাহস করেছিলাম। এদের মধ্যে একজন কথাবার্তায় একটু ‘ভাব’ দেখিয়েছিলেন বলে উনার সাথে আর কোনদিনও কোন কথা বলিনি। আমি অতো ভাবটাব সহ্য করতে পারি না।

 

 

পরে বুঝেছি, চাকরি পেতে পড়াশোনা করতে হয়, বিসিএস ক্যাডারদের সাথে আজাইরা আলাপ করতে হয় না।), বিসিএস পরীক্ষাকে খুব কঠিন মনে হত, আর মনে হত, যদি আমি খুব ভালভাবে পড়াশোনা করি, তাহলে হয়তো আমার সেকেন্ড চয়েজ বিসিএস পুলিশে মেরিটলিস্টের লাস্টের দিকে কোনোরকমে একটা চাকরি পাবো। ভূতের মতন পড়াশোনা করতাম। একেবারেই সাধারণ মানের ক্যান্ডিডেট ছিলাম বলে আমাকে অনেক পরিশ্রম করে চাকরিটা পেতে হয়েছে। তবে চাকরি পাব না, এটা কখনওই মাথায় আসত না। মনে হত, নিশ্চয়ই পাব, তবে সেটার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। রেজাল্ট বের হওয়ার পরে বুঝেছি, অতো পড়াশোনা না করলেও চলত। আমি তো আর ফার্স্ট হতে চাইনি, আমি শুধু একটা চাকরি চেয়েছি। ফার্স্ট হওয়াটা আমার জন্য যোগ্যতার তুলনায় অধিক প্রাপ্তি। মাঝে মাঝে ভাবি, Ignorance is bliss! বিসিএস পরীক্ষার বেলায়, যে যত পণ্ডিত, সে তত গর্দভ। এ পরীক্ষায় বেশি বুঝলই বিপদ! ইংরেজিটা সেই ছোটবেলা থেকেই পড়তাম ভালোবেসে। যে কাজটা আপনি ভালোলাগা থেকে করবেন, সেটাতে কিছুতেই ক্লান্তি আসবে না, এমনকি আপনি যদি দিনে ১৮ ঘণ্টাও সে কাজটা করেন, তবুও।

 

একটা সময়ে ইংরেজি নিয়ে এতটাই কনফিডেন্ট ছিলাম যে, আমি পৃথিবীর সব মানুষকেই ক্ষমা করে দিতে পারতাম, কিন্তু আমার চাইতে ভাল ইংরেজি জানে এরকম কারোর সাথে দেখা হয়ে গেলে, নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারতাম না। নিজের উপর সর্বোচ্চ যতটুকু প্রেশার দেয়া যায়, ততটুকু প্রেশার দিলেও অন্তত ইংরেজি পড়ার ক্ষেত্রে কখনওই ক্লান্তি এসেছে বলে মনে পড়ে না। হাজার হাজার ইংরেজির প্রশ্ন সলভ করেছি যেগুলি বিভিন্ন চাকরি কিংবা ভার্সিটির নানান ভর্তি পরীক্ষায় এসেছে। প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর ইন্টারনেটের বিভিন্ন গ্রামার ফোরাম, ডিকশনারি, ইউসেজের বই, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের গ্রামার বই (আমার কালেকশনে ল্যাংগুয়েজের বই অন্তত তিনশ’) দেখে শিওর হয়ে সলভ করেছি। পড়াশোনার ব্যাপারে অতিমাত্রায় খুঁতখুঁতে স্বভাবের ছিলাম বলে গাইডের উত্তরকে কখনওই বিশ্বাস করতাম না। কারণ, প্রচুর গাইড পড়তে গিয়ে যা বুঝেছি, তা হল গাইডলেখকদের জানার দৌড় খুব বেশি নয়। আমার কাছে একটা প্রশ্ন মানে ছিল চারটা প্রশ্ন।

 

যেটা উত্তর, সেটা ছাড়াও বাকি তিনটা অপশন নিয়েও পড়াশোনা করে ফেলতাম। ইংরেজি পড়ার সময়ে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এসেছে, এমন কিছু প্রশ্নকে দুইটা নোটবুকে লিখে রেখেছিলাম। কোন ধরণের প্রশ্ন লিখে রেখেছিলাম? সে ধরণের, যেগুলি আমার কাছে মনে হয়েছে, রিভিশন দেয়ার সময় পড়া উচিত। এ কাজটা করতে গিয়ে যে পরিশ্রমটা করতে হয়েছিল, সেটা নিতান্তই বদ্ধ উন্মাদ টাইপের পরীক্ষার্থী না হলে কেউ করে না।একটা নোটবুক সেদিন বাসায় হঠাৎ খুঁজে পেলাম। আমার কর্মস্থল সাতক্ষীরায় আসার সময় সাথে করে সেটি নিয়ে এসেছি। আজকে অফিস থেকে বাসায় ফিরে নোটবুকের পাতা উল্টে উল্টে প্রায় ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাথা, ঘাড়, পিঠ, কোমর ব্যথা করে আমার স্যামসাং মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলে আপনাদের জন্য আপলোড করে দিলাম। যদি কারোর কাজে আসে, আমার ভাল লাগবে। ভাল কথা, কেউ যদি এই নোটবুকের পৃষ্ঠার ছবিগুলি দেখে দেখে প্রশ্নগুলি টাইপ করে আমাকে একটা ওয়ার্ড ফাইলে পাঠান, তাহলে আমি সেটিকে আপনার নাম উল্লেখ করে প্রতি যথাযথ কৃতজ্ঞতাসহ নোট আকারে সেভ করে রাখব। ভবিষ্যতে সে নোটটি অনেকেরই কাজে আসবে।

 

কাজটি ধৈর্য ধরে একবার করে ফেলতে পারলে এ প্রশ্নগুলি কখনওই ভুলে যাওয়ার কথা নয়। জানি, অনেকেই হয়তো নিজের জন্যই কাজটি করবেন। করলে, দয়া করে আমাকে এক কপি পাঠাবেন। ইংরেজির অন্য নোটবুকটি খুঁজে পেলে আমি সেটিও আপলোড করে দেবো। হ্যাপি রিডিং!!

 

শুভকামনায়
সুশান্ত পাল
আপনাদের সিনিয়র সহকর্মী Follow me on Fb Sushanta Paul

[X]
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *