Home / Govt Jobs / 13 thousand people will receive free training , with allowances

13 thousand people will receive free training , with allowances

বিনামূল্যে ১৩ হাজার লোক পাবে প্রশিক্ষণ, সঙ্গে ভাতাও…..

১৩ হাজার ৫ জন নারী-পুরুষকে নির্মাণ কাজসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই)। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট (সেপ) প্রকল্পের অধীনে বিনা মূল্যে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কোর্স শেষে সনদ মিলবে। সঙ্গে দেয়া হবে ভাতাও।

১১টি বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর মধ্যে সাতটি ট্রেড কোর্স এবং চারটি ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কোর্স। ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কোর্সগুলোতে অংশ নেয়ার জন্য থাকতে হবে স্নাতক ডিগ্রি।

 

 

বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ সঙ্গে ভাতা

স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেপ) প্রকল্পের আওতায় ১৩ হাজার ৫ জন নির্মাণকর্মীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই)। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মধ্যে তিন হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দেয়া হবে মাসিক ভাতা, কোর্স শেষে মিলবে সনদ। চাকরির ব্যাপারে সহায়তাও করবে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কোর্স শুরুর আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

 

 

প্রশিক্ষণের বিষয়

সেপ প্রকল্পের আওতায় ১১টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর মধ্যে সাতটি ট্রেড কোর্স এবং চারটি ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কোর্স। ট্রেড কোর্স হল- মেশিনারি, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল, রড বাইন্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, টাইলস অ্যান্ড মার্বেল ওয়ার্কস, পেইন্টিং ও অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেশন। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ তিন মাস। ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কোর্সগুলো হল- সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রিপারেশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং ক্যাড (টুডি ও থ্রিডি)। ক্যাড কোর্সে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের বাকি তিনটি কোর্সে প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। তিন মাসমেয়াদি কোর্সে ৩০০ ঘণ্টা এবং দুই মাসমেয়াদি কোর্সে দেয়া হবে ৫০ ঘণ্টার হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ।

মিলবে ভাতা ও চাকরি

কোর্স শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হয়। উত্তীর্ণদের দেয়া হয় সনদপত্র। কোর্সে অংশ নেয়ার জন্য কোনো ফি লাগবে না। উপরন্তু প্রতি মাসে ভাতা হিসেবে দেয়া হয় তিন হাজার ১২০ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের কোর্সে একজন প্রশিক্ষণার্থী ৯ হাজার ৩৬০ টাকা পাবে। দূর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কয়েকটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে। প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী ৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীর চাকরির ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। বিএসিআইয়ের সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করে থাকে।

 

 

নির্মাণ শ্রমিকরাও আবেদন করতে পারবে

বিএসিআই সূত্রে জানা গেছে, সব কোর্সেই নতুনদের পাশাপাশি এসব পেশায় নিয়োজিতরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। ট্রেড কোর্সে অংশ নেয়ার জন্য পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে। যেহেতু তত্ত্বীয় ক্লাস আছে, তাই ন্যূনতম পড়াশোনা জানতে হবে। বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৫ বছর। ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কোর্সগুলোতে অংশ নেয়ার জন্য থাকতে হবে স্নাতক ডিগ্রি।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঠিকানা দেয়া হল- মিরপুর এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল : ১/সি-১/এ, পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬। ফোন : ৯০০২৫৪৪, ৯০০২৪৯৩ ইমেইল : mr.atiar@yahoo.com। মনটেজ ট্রেনিং অ্যান্ড সার্টিফিকেশন ১৪২, ১৪৩ মিরাশপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, টঙ্গী, গাজীপুর। ফোন : ৯৮১৬৩৫১, ০১৯১৪৮৬১০৪৬ ইমেইল : montagebd@yahoo.com। আল ইসলাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট আনারকলি, অকপাড়া, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা। ফোন : ০১৭২০০২৫২৯৯। ইউসেপ প্লট নম্বর ২-৩, মিরপুর ২, ঢাকা ফোন : ৯০৩১০১৪।

 

 

আবেদনের নিয়ম

যেসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে সেখান থেকে সরাসরি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহীরা। অনলাইনে সেপ প্রকল্পের ওয়েবসাইট (seip-fd.gov.bd) থেকেও আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। যে কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক সেখানে জমা দিতে হবে পূরণকৃত আবেদন ফরম।

সিলেকশন

প্রতি ব্যাচে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ট্রেড সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন থাকতে পারে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর কাজের প্রতি আগ্রহ, প্রশিক্ষণ নিলে সে এ পেশায় আসবে কি না, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কেন নিতে চায়, প্রশিক্ষণ নিলে কিভাবে লাভবান হবে এসব বিষয় যাচাই করা হয়। নির্মাণ শিল্পে কাজ করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই শারীরিকভাবে উপযুক্ত ও কর্মক্ষম হতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর শারীরিক ফিটনেসও দেখা হয়।

 

 

কেন এই প্রশিক্ষণ

সেপ প্রকল্পের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, দেশে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে যারা কাজ করে তাদের বেশির ভাগই স্কুল পর্যায়ে ঝরে পড়া, অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত শ্রেণীর হয়ে থাকে। এদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ থাকে না। অন্যের কাজ দেখে দেখেই তারা শিখে। অপ্রশিক্ষিত শ্রমিকের কাজে ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। পরে যা বড় ধরনের বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় এখন দেশে অনেক ২০-৩০ তলা উঁচু ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে ফ্লাইওভার, সেতু। এসব প্রকল্পে যে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করে তাদের ভালো মানের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

প্রশিক্ষিত শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। সেই সঙ্গে কাজটাও যথাযথ হবে।

হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণ কোর্সকে দুভাগে ভাগ করা হয়- থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল। কোর্সের মোট সময়ের মধ্যে তত্ত্বীয় অংশে ২০ শতাংশ এবং ব্যবহারিক অংশে ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকে। হাতে-কলমে শেখার ওপর বেশি জোর দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের তৈরি কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী। ক্লাস নেন বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা। ব্যবহারিক ক্লাস নেন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। প্রশিক্ষণার্থীরা কেমন কাজ শিখছে তা তদারকি করেন বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজাররা।
সূত্র: যুগান্তর।

[X]
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *