Home / New Job / সুশান্ত পালেরা এভাবেই হারিয়ে যায়…

সুশান্ত পালেরা এভাবেই হারিয়ে যায়…

আরেকটি ৬ নভেম্বর চলে এসেছে । গত বছর এই দিনে ভেবেছিলাম সামনের বছর এই দিনে দাদাকে স্মৃতিচারন করে একটা ফোন দিব আর আজ মনে হচ্ছে ফোন দিয়ে কিসের স্মৃতিচারন করব ? নিজেকে বড়ই অসহায় লাগে, নীরব দর্শক হয়ে দেখলাম একটা মানুষ কিভাবে মানসিক রোগী হয় ।

যাই হোক কথা বলছিলাম ৬ নভেম্বর নিয়ে । সেই সময়ে সুশান্ত পাল চরম আলোচিত চরিত্র, কত কত ব্যস্ততা । প্রোগ্রাম শিডিউল নেবার জন্য অনেক আগে থেকেই বুকিং দিতে হয় । নারী প্রীতি নাকি বেশি, সেই জন্য ফেসবুকে মেসেজ দিতে যেয়েও কতদিন মেসেজ দেইনি । কিন্তু আমাকে তো প্রোগ্রামটা করতেই হবে, তাই সাহস নিয়ে মেসেজ দিলাম যদিও মনে হচ্ছিল যে রিপ্লাই পাব না । মেসেজটা ছিল এইরকমঃ দাদা আমরা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ক্যারিয়ার আড্ডার আয়োজন করতে চাচ্ছি, আপনি যদি একটু সময় দিতেন ? ঘন্টা দুয়েক পরে রিপ্লাই আসল কবে করতে চান ? কোথায় হবে প্রোগ্রামটা ? পলিটিক্যাল ব্যানারে হলে আমি যাব না । আমি বললাম দাদা নভেম্বর মাসে কি শিডিউল পাওয়া যাবে ? বলল যে ৬ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ফ্রি আছি । আমি বললাম ওকে ডান ।

এভাবেই শুরু । আমাদের ক্যাম্পাসে এইরকম প্রোগ্রাম খুব একটা হত না, তাই একটু সংশয়ে ছিলাম যে জমাতে পারব কিনা । গুগল ফর্মের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা শুরু করলাম, ভালোই রেজিস্ট্রেশন হল । সিলেটের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করল । তারপরও সংশয়ে ছিলাম অডিটোরিয়াম ভরবে তো ? শুভাশিষ আর মঞ্জুর বার বার বলছিল ভাই আপনি টেনশন কইরেন না, দেখবেন অনেক লোক হবে ।

৬ই নভেম্বর দীর্ঘ ১৪ ঘন্টার ভ্রমন শেষে উনি আসলেন । সকালের সেশন স্পন্সর কারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, খুব একটা লোক হল না, টেনশন বাড়তেছিল, দুপুরে লোক হবে তো ? দাদা তো খুব রেগে যাবে লোক না হলে । দুপুরের প্রোগ্রাম ছিল ৩ টায়, অডিটোরিয়াম খোলা হবে ২.৩০ এ । অফিসের কাজে আমি সিলেটেই ছিলাম, প্রোগ্রামের খবর সবসময় নিচ্ছিলাম । যতটুকু মনে মনে ১.৩০ থেকেই অডিটোরিয়ামে ঢুকে পড়েছিল সুশান্ত ভক্তরা, বিভিন্ন জনের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে মনে হচ্ছিল অনেকটা যুদ্ধ করেই তারা নিজেদের আসন গ্রহন করতে পেরেছিল, অনেকেই তো ঢুকতে না পেরে ফেরত গিয়েছিল । অবশেষে উনি স্টেজে উঠলেন, টানা ৫ ঘন্টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বললেন, উপস্থিত জনতাও মুগ্ধভরে টানা এই সময়টা শুনল উনার কথা ।

এটা শুধু সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার আড্ডার ঘটনা না, আমার মনে হয় সারা দেশে যতগুলা ক্যারিয়ার আড্ডা হয়েছে সবগুলাতেই একই ঘটনা ঘটত । ভিন্ন কিছু নিয়ে সকলের সামনে হঠাৎ হাজির হওয়া একটা মানুষ এতটাই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল ।

আরেকটি ৬ নভেম্বর আসার আগে গত বছরের সেই দিনের স্মৃতিগুলা মনে আসছিল । হঠাৎ করেই আবার মনে হল আমি কোন সুশান্তের কথা বলছি ? মানসিকভাবে অসুস্থ সুশান্ত পালের কথা বলছি নাতো ? কথাটা মনে হতে হতেই মনে হল যে ফেসবুকে একবার উনাকে নক দেই । অনেক গুতাগুতি করেও ফেসবুকে পেলাম না সুশান্ত পালের আইডি টা । ভাবলাম ফোন দিয়ে দেখি মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষটা কেমন আছে । ফোন নাম্বারটাও বদলে ফেলেছেন । পরক্ষনেই মনে হল আসলে কি এই নামে কেউ ছিলেন? মনে হচ্ছিল সুশান্ত পাল একটি কাল্পনিক চরিত্র কিংবা মিডিয়ার সৃষ্টি; বাস্তবে এই নামে কেউ নেই, ছিলও না । তারপরও যদি মনে হয় কেউ ছিল এই নামে তাহলে নিজেকেই মানসিক রোগী মনে হবে ।

শেষে মনে হল মানসিক রোগীকে নিয়ে চিন্তা বরং বাদ দেই, এর চেয়ে এই বৃষ্টির দিনে একটা হিন্দি ছবি দেখা যাক; সালমান খানের “তেরি নাম” কিংবা “কিউ কি” ছবিটা দেখে সময়টা কাটিয়ে দেওয়াই মনে হল শ্রেয় ।

সুশান্ত পালের মত মানসিক রোগীরা হয়ত এভাবেই হারিয়ে যায় ।

খালিদ হোসাইন
মানসিকভাবে সুস্থ একজন মানুষ

[X]
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *