Home / News / সরকারের সিদ্ধান্তের

সরকারের সিদ্ধান্তের

আদালতের আদেশে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করায় মামলাটি বিচারাধীন। এ অবস্থায় আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নতুন দল গঠন করবে, না নিবন্ধিত কোনো দলের ব্যানারে অংশ নেবে— এ নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে জামায়াতে ইসলামী।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘোষণা করছেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জামায়াত নিষিদ্ধ করা হবে। এ ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং বেআইনি। জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করে জনগণের মন থেকে কখনো জামায়াতকে মুছে ফেলা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের এ সহানুভূতি ও ভালোবাসাই জামায়াতকে সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগাবে। জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রশ্নে সরকার এখন ধীরগতিতে চলছে। সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জামায়াত নিষিদ্ধের দিকে যাচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায়। সূত্রের দাবি, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে নিষ্ক্রিয় একটি দলকেই বেছে নেবে। নিষ্ক্রিয় নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে আবদুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদারের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, ব্যারিস্টার আরশ আলীর গণতন্ত্রী পার্টি, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর বিজেপি, কর আইনজীবী জাকির হোসেনের গণফ্রন্ট, ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল—পিডিবি, মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নাম শোনা যাচ্ছে। উল্লিখিত দলগুলোর একটি দলের একাধিক নেতা বলেন, জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে এ দলগুলোর আদর্শের মিল নেই। জামায়াত অন্য দলে ভিড়লে সংশ্লিষ্ট দলের বডির সঙ্গে কীভাবে ম্যাচ করবে, দলীয় প্রধানসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন আছে। এগুলো জটিল। নিষিদ্ধসাপেক্ষে জামায়াতের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ খুব সহজেই মিলবে না। তবে বিকল্প হিসেবে নতুন নামে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আমলে দল নিষিদ্ধ হলে নতুন নামে নিবন্ধন পাওয়া যাবে না বলে দায়িত্বশীলরা মনে করছেন। তাই সরকারের দিকেই তাকিয়ে দলটি।

উৎসঃ   বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *