Home / BCS Tips / বিসিএস রিটেন + ভাইভা জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন। তাই এই গুলা আগে পড়ুন

বিসিএস রিটেন + ভাইভা জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন। তাই এই গুলা আগে পড়ুন

বিসিএস রিটেন + ভাইভা

প্রশ্ন: একটি সড়ক দূর্ঘটনা যেন সারাজীবনের কান্না – ব্যাখ্যা করুন?

 

বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনাকে বাংলাদেশের বড় এক সমস্যা বলে আখ্যায়িত করা যায় বৈকি? সড়ক দুর্ঘটনার চালচিত্র দেখে আমরা বলতে পারি যে, সড়ক- মহাসড়কগুলো এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। মৃত্যু যেন ওত পেতে বসে আছে রাস্তার অলিতে- গলিতে। স্বজনহারা মানুষের আকুতি ও পিতৃহারা সন্তানের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। ঈষাণের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে রাস্তাগুলোতে। কথায় আছে, যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। এ বছর ঈদ যাত্রায়ও মানুষের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার ভয় মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পাননি অনেকেই। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অনেক তাজা প্রাণ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুুর্ঘটনা ঘটেছে ২১১টি। এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৫৬ জন আহত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জন। তার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি।

 

এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৪৮ জন। আহত হয়েছে ১ হাজার ৫৬ জন। আর কতগুলো জীবনপ্রদীপ এভাবে রাস্তায় নিভে গেলে, আমরা সড়ক দুুর্ঘটনা নামক মৃত্যুর ফাঁদ থেকে রেহাই পাবো ? নাকি ভেবে বসবো যে, সড়ক দুর্ঘটনা অপ্রতিরোধ্য। সড়ক দুুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সারা জীবনের জন্য বয়ে বেড়াতে হয়। দুর্ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। বিশ্ব ব্যাংক দুুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউট বুয়েট এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ঘটছে ১০-১২ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করছে ১৮-২০ হাজার। সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এ থেকে সহজে অনুমান করা যায় যে, এত পরিমাণ ক্ষতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়। সড়ক পথের অনেক উন্নতি হয়েছে।

 

কিন্তু দুর্ঘটনা কমছে না। এর প্রধান কারণ বিশৃঙ্খলা। সড়ক দুর্ঘটনা লাগাম টেনে ধরতে না পারলে, ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরো বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, ওভারটেকিং, লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, ওভার ব্রিজের স্বল্পতা, অপ্রশস্ত রাস্তা, রাস্তার পাশে অবৈধ ব্যবস্থাপনা, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। ট্রাফিক আইন জোরালোভাবে প্রয়োগ, ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে, ড্রাইভিং লাইন্সেস বিহীন গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। এছাড়াও দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান জারি এবং রাস্তার পাশের সকল অবৈধ ব্যবস্থাপনা সরিয়ে দিতে হবে। দেশে সড়কের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি প্রয়োজনে পুরাতন রাস্তা মেরামত ও নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হতে পারে। মানুষের মৃত্যু ঘটবে স্বভাবিক কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় আর যেন অকালে মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু না ঘটে, যেন মা-বাবার কোলে সন্তানের, সন্তানের কোলে মা- বাবার লাশ দেখতে না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *