Home / BCS Tips / 20 Number BCS only 4 lines down ! Can you think !!

20 Number BCS only 4 lines down ! Can you think !!

৩৬তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি
চার লাইন লিখে ২০মার্কস !!!!! ভাবা যায়!!
বাংলা ২য় পত্রে সারমর্ম বা সারাংশে ২০নম্বর !!!!!!!!! সারাংশ বা সারমর্ম লিখতে হবে চার থেকে পাঁচ বাক্যের মধ্যে, বিশেষণ বা অলংকরণের , উপমা, উক্তি ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। সহজ , সাবলিল, সুন্দর,প্রাঞ্জল ভাষায় মূলভাব টুকু শুধু লিখতে হয়।এজন্য নিজের ভাষাগত জ্ঞান ও বোধগম্যতা এবং কল্পনা শক্তির বৃদ্ধি ঘটাতে হবে যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আয়ত্তে আসবে। আগে বিগত সালের গুলো অনুশীলন করা ভালো , সাথে ৯-১০শ্রেণির বাংলা রচনা সম্ভার বই থেকে বহুল পরিচিত কবিতাগুলোর সারমর্ম গুলো অনুশীলন করলে কাজে দিবে। নিচে কিছু দেওয়া হল।
,

 
১.
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে।
জানি না তোমার ধন, রতন আছে কি না রানীর মতন
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় বসে।
কোন বনেতে জানিনে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল
কোন বনেতে উঠেরে চাঁদ এমন হাসি হেসে।
আঁখি মেলে তোমার আলো দেখে আমার চোখ জুড়ালো
ঐ আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে।
,
সারমর্ম : জন্মভূমি স্বর্গতুল্য। জন্মভূমি ছাড়া কোনো দেশই মানুষকে পরিতৃপ্ত করতে পারে না। তাই জন্মভূমির মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা সবারই একান্ত কাম্য।
২.
ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।
মুহূর্ত নিমেষ কাল, তুচ্ছ পরিমাণ,
গড়ে যুগ-যুগান্তর অনন্ত মহান।
প্রত্যেক সামান্য ত্রুটি ুদ্র অপরাধ
ক্রমে টানে পাপ পথে, ঘটায় প্রমাদ।
প্রতি করুণার দান, স্নেহপূর্ণ বাণী
এ ধরায় স্বর্গসুখ নিত্য দেয় আনি।
সারমর্ম : ুদ্র হতেই বৃহতের সৃষ্টি। ছোট ছোট বালুকণার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মহাদেশ, বিন্দু বিন্দু জল সৃষ্টি করে সিন্ধু, তুচ্ছ মুহূর্তের সমষ্টিতে গড়ে ওঠে যুগ-যুগান্তর। ঠিক তেমনি সামান্য ত্রুটিও ক্রমে টেনে নেয় পাপ পথে এবং তা মানুষের পতন আনে। আবার ছোট ছোট করুণার দান ও স্নেহপূর্ণ বাণী পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করে।
,

৩.
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানাভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র।
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়
পাঠ্য যেসব পাতায় পাতায়
শিখছি যেসব কৌতূহলে সন্দেহ নেই মাত্র।
সারমর্ম : বিশ্ব প্রকৃতি এক বিশাল পাঠশালার মতো। সেখানে বিচিত্র কর্মপ্রবাহের মধ্যে মানুষ অনেক কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ পেয়েছে। মানুষের উচিত সেসব অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে জীবন সমৃদ্ধ করা।
৪.
বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের ওপরে
একটি শিশির বিন্দু।

সারমর্ম : বহু অর্থ, সময় আর দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মানুষ পাড়ি জমায় সৌন্দর্য দর্শনে। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা থেকে যায় তার দৃষ্টির অন্তরালে।মূলত মানুষের সামনে এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিচিত্র সৌন্দর্যের শোভা বিরাজমান আর তা উপলব্ধির জন্য চাই সে ধরনের দৃষ্টিশক্তি।

,
৫.
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান।
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাবো তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সারমর্ম : পৃথিবীতে নতুন শিশু জন্ম নিয়েছে। এবার পুরনোকে মৃত ও ধ্বংসস্তূপে স্থান নিতে হবে। তবে যত দিন প্রবীণেরা জীবিত আছেন, তত দিন এ পৃথিবীর জঞ্জাল পরিষ্কার করে শিশুদের বাসোপযোগী করে তোলার দৃপ্ত অঙ্গীকার করতে হবে।
৬.
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তাহা বহু দূর?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায়গো লয়।
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদের কুঁড়েঘরে।
সারমর্ম : মানুষ আপন কর্মফলের দ্বারা এ পৃথিবীতেই স্বর্গ-নরক রচনা করতে পারে। মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সৎ ও পুণ্য কর্মের দ্বারা জগতে অমিয় ধারা নামিয়ে আনতে পারে। আবার পাপকর্ম সাধনের দ্বারা মানুষ অনুতাপের দহনে বিদগ্ধ হয়ে নরকের যন্ত্রণা ভোগ করে। এভাবে দেখা যায়, স্বর্গ-নরক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। –
,
সারমর্ম : এ বিশ্ব জগতে যা কিছু আছে সকলের কাছ থেকে আমরা নানাভাবে নানা কিছু শিখছি। আকাশ আমাদের উদারতা শিক্ষা দেয়, বাতাস শেখায় সত্যিকারের কর্মী হবার পাঠ। পাহাড়ের কাছ থেকে আমরা মৌন ও মহান হওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করি। সূর্য তার অপরূপ উজ্জ্বলতা দিয়ে আমাদের আপন মহিমায় জ্বলতে শেখায় আর চাঁদ শেখায় হাসিমুখে মধুর কথা বলতে। নদীর কাছ থেকে আমরা আপন বেগে চলবার শিক্ষা লাভ করি আর মাটির কাছ থেকে সহনশীলতার দীক্ষা গ্রহণ করি। এভাবে বিশ্বের সুবিশাল পাঠশালা থেকে আমরা নিত্যনতুন শিক্ষা লাভ করি।
.
.৭.
আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত
গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত।
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান,
তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম-মহান,
চলমান-বেগে প্রাণ-উছল
রে নবযুগের স্রষ্টা দল,
জোর কদম চলরে চল্।

সারমর্ম : মানব জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য সামনে এগিয়ে যাওয়া। অতীতের গ্লানি, ব্যর্থতা মুছে ফেলে নব উদ্যমে সৃষ্টির অন্বেষায় ছুটে চলায় নিহিত থাকে নবযুগ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
,
১. বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে

বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে

দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,

দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শীষের উপরে

একটি শিশির বিন্দু।

সারমর্ম : মানুষ বহু অর্থ ও সময় ব্যয় করে দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য যায়। কিন্তু ঘরের কাছের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যটুকু দেখা হয় না বলে সে দেখা পূর্ণতা পায় না।
,
২. বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা,-

বিপদে আমি না যেন করি ভয়।

দুঃখ তাপে ব্যথিত চিত্তে নাই বা দিলে সান্ত্বনা

দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।

সহায় মোর না যদি জুটে,

নিজের বল না যেন টুটে।

সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,

নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।

আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা

তরিতে পারি শক্তি যেন রয়।

আমার ভার লাঘব করি নাইবা দিলে সান্ত্বনা

বহিতে পারি এমনি যেন হয়।

সারমর্ম : সুদৃঢ় মনোবল ও আত্দশক্তি বলিষ্ঠ প্রয়োগের মাধ্যমেই জাগতিক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করে সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব। নিজের ভার অপরের লাঘব করলে নিজের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। বিধাতার কাছে তাই আত্দশক্তিই আমাদের প্রার্থনা।
,
৩. বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি, সে আমার নয়-

অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময়

ঔভিব মুক্তির স্বাদ। এই বসুধার

মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারংবার

তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত

নানা বর্ণগন্ধময়। প্রদীপের মতো

সমস্ত সংসার মোরে লক্ষ বর্তিকায়

জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায়

তোমারি মন্দির মাঝে।

সারমর্ম : সংসারের বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে আত্মার মুক্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষকে পবিত্র আনন্দে বেঁধে রাখার জন্যই বিধাতা এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এই জগৎকে ভালোবাসলেই তাঁকে ভালোবাসা হয়; তাতেই মুক্তি।
,
৪. শৈশবে সুদুপদেশ যাহার না রোচে,

জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।

চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,

কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?

সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,

ফল কহে সেও অতি নির্বোধ অধম।

খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,

কিসে পার হবে তারা না আসিলে ফিরে।

সারমর্ম : জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য শৈশব থেকেই সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ের সদ্ব্যবহার অনুশীলন করা উচিত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে পরবর্তী সময়ে সে কাজ করার সুযোগ আর নাও আসতে পারে।
,

 
৫. সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র যদি পূর্বাচল কোণে

নাই হয় উদয়,

তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে,

না করিব ভয়।

হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি, বিভীষিকা মূর্তি ধরি যদি

গ্রাসিবারে আসে,

সে মৃত্যু লঙ্ঘিয়া যাব সিন্ধু পারে নবজীবনের

নবীন আশ্বাসে।
,
সারমর্ম : জীবনে যদি শত আঘাত, বাধা-বিপত্তি, ভয় এবং দুঃখের অমানিশাও ঘনিয়ে আসে তাতে ভেঙে পড়লে চলবে না। নতুন জীবনের ডাকে সাড়া দিয়ে সে-সব উপেক্ষা করে প্রগতির দিকে ধাবিত হতে হবে।

৬. সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,

দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা।

পুণ্য এতে হবে নাকো, সব করিলেও জড়।

মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,

সবারই সে অন্ন যোগায় নাইকো গর্ব লেশ।

ব্রত তাহার পরের হিত সুখ নাহি চায় নিজে,

রৌদ্রদাহ-তপ্ত তনু শুখায় মেঘে ভিজে।

আমার দেশের মাটির ছেলে করি নমস্কার,

তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সকল অহঙ্কার।

সারমর্ম : যে সাধনার ফল সবাই ভোগ করতে পারে তা-ই বড় সাধনা। এ কারণে চাষিই সবচেয়ে বড় সাধক। তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যে ফসল ফলায়, তার ওপর নির্ভর করে সমগ্র দেশ বেঁচে থাকে বলেই সে দধীচির চেয়েও বড় সাধক।
,
৭. স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালবাসে,

সুখের আলো জ্বালে বুকে, দুঃখের ছায়া নাশে।

স্বাধীনতা সোনার কাঠি, খোদার সুধা দান,

স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্য দেহে প্রাণ।

মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায়, পশুর হৃদয়তলে,

বুক ফুলায়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে।

দর্পভরে পদানত উচ্চ করে শির,

শক্তিহীনেও স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর।

সারমর্ম : মানুষের জীবনে স্বাধীনতা পরশ পাথরের মতো। তার ছোঁয়ায় দুঃখময় জীবনে আসে সুখ, মুমূর্ষু, জাতির জীবনে জাগে প্রাণস্পন্দন। স্বাধীনতা মানুষের ভীরুতা দূর করে তাকে সাহসী করে তোলে।
,
৮. হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান!

তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিষ্টের সম্মান

কণ্টক মুকুট শোভা;-দিয়াছ তাপস,

অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;

উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি; বাণী ক্ষুরধার,

বীণা মোরে শাপে তব হল তরবার।

দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,

অম্লান স্বর্গরে মোর করিলে বিরস,

অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!

শীর্ণ করপুট ভরি সুন্দরের দান

যতবার নিতে যাই- হে বুভুক্ষু, তুমি

অগ্রে আসি, কর পান! শূন্য মরুভূমি

হেরি মম কল্পলোক।
,

সারমর্ম: দারিদ্র্য জীবনকে করে মহিমান্বিত। দারিদ্র্য মানুষকে স্পষ্টভাষী করে, ফলে সে নির্মম বাণী প্রকাশের প্রেরণা পায়, নিজের দাবি জানাতে সাহস পায়। কিন্তু দারিদ্র্যের অভিশাপে জীবনের অনেক স্বপ্ন অপূর্ণ থাকে এবং সৌন্দর্য-আনন্দ বিনষ্ট হয়।
,
৯. হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-

তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,

পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ

পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।

কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি!

অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ,

মজিনু বিফল তপে অবরেণ্য বরি;-

কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন!

পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে

মাতৃভাষা-রূপ খনি, পূর্ণ মণিজালে।

সারমর্ম: পরের সম্পদের লোভ করা ভিক্ষাবৃত্তির শামিল। নিজের মাতৃভাষা ও সাহিত্যের ভাণ্ডার যেন খনির মতো অনন্ত রত্নসম্পদের আকর। তা অবহেলা করে অন্য ভাষা-সাহিত্যের দ্বারস্থ হওয়া মূর্খতা।
,
১০. ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা

হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা

তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম

সত্যবাক্য ঝলি ওঠে খরখড়গ সম

তোমার ইঙ্গিতকে। যেন রাখি তব মান

তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে

তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।

সারমর্ম: অন্যায় করা এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্যায়কারী ও অন্যায়সহ্যকারী দুজনই সমান অপরাধী, এবং ঘৃণার পাত্র। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রয়োজনবোধে উভয়ক্ষেত্রেই কঠোর হতে হবে।
,
১১. পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও;

তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?

আপনার কথা ভুলিয়া যাও,

পরের কারণে মরণেও সুখ

সুখ সুখ করি কেঁদো না আর,

যতই কাঁদিবে ততই বাড়িবে,

ততই বাড়িবে হৃদয় বার।

আপনার লয়ে বিব্রত রহিতে

আসে নাই কেহ অবনী পরে,

সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
,
সারমর্ম: আপন ভোগ-বিলাসে মগ্ন থাকার জন্যই মানুষের জন্ম হয়নি। পরার্থে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সুখ নিহিত। অতএব, প্রকৃত সুখ পেতে হলে নিজেকে পরের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে হবে।
,
১২. একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে

দহিল হৃদয় মম সেই ক্ষোভানলে।

ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে

গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।

দেখি সেথা এক জন পদ নাহি তার

অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।

পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন

আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ।

সারমর্ম: পদহীন দুঃখিজনের কথা চিন্তা করলে কারো পায়ে জুতা না থাকার দৈন্য মনে স্থান পায় না। আসলে পরের দুঃখ কষ্টকে উপলব্ধি করার মাঝেই জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা নিহিত।
,
১৩. এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;

জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে।

চলে যেতে হবে আমাদের।

চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করেও যাবো আমি

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

সারমর্ম: পৃথিবীতে নতুনের জন্যে পুরাতনকে স্থান ছেড়ে দিতে হয়- এটাই প্রকৃতির নিয়ম। জীর্ণ পৃথিবীর ব্যর্থ, মৃত, ধ্বংসস্তূপ আর গ্লানি দূর করে তাকে নবীনদের বাসযোগ্য আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র কাম্য।
,
১৪. কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?

মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর।

রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়,

আত্দগ্লানির নরক অনলে তখনই পুড়িতে হয়।

প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,

স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখনি আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

সারমর্ম: এ পৃথিবীতে মানুষের মাঝেই স্বর্গ ও নরক বিদ্যমান। বিবেকবর্জিত মানুষ পৃথিবীতেই নরক-যন্ত্রণা ভোগ করে। আর যারা ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে তাদের কাছে পৃথিবীটাই স্বর্গ।
,
১৫. দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে

সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার। যার তরে প্রাণ

ব্যথা নাহি পায় কোন, তারে দণ্ড দান

প্রবলের অত্যাচার। যে দণ্ড বেদনা

পুত্রেরে পার না দিতে, সে কারেও দিও না।

যে তোমার পুত্র নহে, তারও পিতা আছে,

মহাঅপরাধী হবে তুমি তার কাছে।

সারমর্ম: বিচারের সময় অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হলে সে বিচার হয় আদর্শ বিচার। কারণ অপরাধ নিন্দনীয়, অপরাধী নয়। তাই একমাত্র সহানুভূতিশীল বিচারই পারে অপরাধীর মনের পরিবর্তন করাতে ও চরিত্রের সংশোধন ঘটাতে।
,
১৬. দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,

লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর

হে নব সভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,

দাও সেই তপোবনে পুণ্যচ্ছায়া রাশি,

গ্লানিহীন দিনগুলি; সেই সন্ধ্যাস্নান,

সেই গোচারণ, শান্ত সামগান,

নীবার ধান্যের মুষ্টি, বঙ্কল-বসনে

মগ্ন হয়ে আত্দমাঝে নিত্য আলোচন

মহাতত্ত্বগুলি। পাষাণপিঞ্জরে তব

নাহি চাহি নিরাপদে রাজভোগ নব-

চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,

বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,

পরানে স্পর্শিতে চাই-ছিড়িয়া বন্ধন,

অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।

সারমর্ম: আধুনিক কর্মনাশা স্রোতে আরণ্যক পরিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। নগর সভ্যতার কৃত্রিমতায় মানবজীবন অতিষ্ঠ। তাই মানুষ আজ আরণ্যক জীবন ফিরে পেতে চায়।
,
১৭. দৈন্য যদি আসে, আসুক, লজ্জা কিবা তাহে,

মাথা উঁচু রাখিস।

সুখের সাথী মুখের পানে যদি নাহি চাহে,

ধৈর্য ধরে থাকিস।

রুদ্র রূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে

বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস,

আকাশ যদি বজ নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে

ঊধের্্ব দু’হাত বাড়াস।

সারমর্ম: জীবনের দুঃখ-দারিদ্র্যের মধ্যে কোনো লজ্জা নেই, বরং কারও মুখাপেক্ষী হওয়ার মধ্যেই লজ্জা। বিপদে ধৈর্য ধারণ করে দুঃখ-দারিদ্র্যকে সাহস ও মনোবল দিয়ে প্রতিহত করতে পারলে জীবনে সফল হওয়া যায়।
,
১৮. পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মনে সকলি দাও,

তার মত সুখ কোথাও কি আছে?

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

পরের কারণে মরণেও সুখ,

‘সুখ-সুখ’ করি কেঁদো না আর;

যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে,

ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে

আসে নাই কেব অবনী পরে

সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
.
সারমর্ম: ব্যক্তিগত দুঃখ সন্তাপে হা-হুতাশ না করে বরং নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। মানব জীবন ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক নয়, একে অন্যের কল্যাণে ব্রতী হওয়াই মনুষ্যত্বের পরিচয়।
,
১৯. বসুমতী, কেন তুমি এতই কৃপণা?

কত খোঁড়াখুঁড়ি করে পাই শস্য কণা।

দিতে যদি হয় দে মা, প্রসন্ন সহাস,

কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস?

বিনা চাষে শস্য দিলে কি তাহতে ক্ষতি?

শুনিয়া ঈষৎ হাসি কন বসুমতী,

আমার গৌরব তাহে সামান্যই বাড়ে;

তোমার গৌরব তাহে একেবারে ছাড়ে।

সারমর্ম: শ্রমবিমুখ মানুষ এই পৃথিবীর সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়। সুকঠিন শ্রম ও কর্মসাধনার কোনো জিনিস লাভ করলে তাতে গৌরব ও আত্দতৃপ্তি দুই-ই পাওয়া যায়। পরিশ্রম ও সৃষ্টিশীলতা মানুষের মর্যাদা ও গৌরব বাড়ায়।

.

১। ছোট ছোট বালুকণা…..স্বর্গসুখ নিত্য দেয় আনি।

সারমর্ম : কোনো ক্ষুদ্র বস্তুই তুচ্ছ নয়। সহস্র ক্ষুদ্রের সমন্বয়েই বৃহতের সৃষ্টি। ত্রুটি কিংবা অপরাধ ক্ষুদ্র হলেও ক্রমে তা পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং এর পরিণাম হয় ভয়ংকর। অন্যদিকে করুণা ও স্নেহের ক্ষুদ্র বাণী এ মাটির পৃথিবীতে স্বর্গের সুখ এনে দিতে পারে।

২। শৈশবে সদুপদেশ যাহার না…..না আসিলে ফিরে।

সারমর্ম : জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য ছেলেবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সময়ের কাজ সময়ে না করতে পারলে তার জন্য জীবনে মূল্য দিতে হয়। কারণ সুযোগ একবার চলে গেলে তা আর ফিরে না-ও আসতে পারে। তখন অনুশোচনা করেও আর লাভ হবে না।

৩। মাতৃস্নেহের তুলনা নাই। কিন্তু অতি স্নেহ……

সারাংশ : মাতৃস্নেহ অতুলনীয় হলেও তার মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয়ে সন্তান পরনির্ভরশীল ও আত্মশক্তিহীন হয়ে পড়ে। ফলে তা মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ শেষ পর্যন্ত সন্তানের অমঙ্গলের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৪। কোনো সভ্য জাতিকে অসভ্য করার ইচ্ছা যদি তোমার থাকে, তা হলে তাদের সব বই ধ্বংস করো এবং সব সমাজবিজ্ঞান……

সারাংশ : লেখক ও পণ্ডিত ব্যক্তিরাই দেশ ও জাতির পথপ্রদর্শক। কোনো সভ্য জাতির সাহিত্য ধ্বংসের মাধ্যমে জাতিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব। জাতির পথ নির্দেশনা এই সাহিত্যে বিদ্যমান। তাই জাতির অগ্রগতিকে আরো গতিশীল করার জন্য সাহিত্যের মাধ্যমে জাতির মনে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

৫। শ্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করো। কালি-ধূলির মাঝে, রৌদ্রবৃষ্টিতে কাজের ডাকে নামিয়া যাও। বাবু হইয়া……

সারাংশ : কায়িক শ্রম মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। শ্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া যায় না। চিন্তা ও পুস্তক জ্ঞানের যে দ্বার উন্মোচন করে, তা পূর্ণতা পায় কায়িক শ্রমে। এ জন্য শ্রমকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

৬। দণ্ডিতের সঙ্গে দণ্ডদাতা……তুমি তার কাছে।

সারমর্ম : অপরাধপ্রবণতা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি নয়। কাজেই কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার আগে বিচারককে আন্তরিক ও সহমর্মী হওয়া উচিত। যে বিচারক দণ্ড দিতে গিয়ে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং নিজেকে দণ্ডিত ব্যক্তির অতি কাছের মানুষ ভেবে ব্যথিত হন, তাঁর বিচারই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

৭। পরের মুখে শেখা বুলি……কোথাও পাবি না রে।

সারমর্ম : নিজস্বতাই মানুষের যথার্থ পরিচয় ও আত্মপ্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি। পর ভাষা ও ভূষণ অনুসরণ করে মানুষ ‘নকল’ মানুষ হয়ে উঠতে পারে। এতে মানুষের কোনো মর্যাদা নেই, বরং নিজেরই অমর্যাদা ঘটে। আপন মূল্যবোধ ও সত্তাকে ধারণ করেই মানুষ সত্যিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা লাভ করতে পারে। অনুকরণ সর্বদাই নিন্দনীয়।

৮। তুমি জীবনকে সার্থক সুন্দর করিতে চাও? ভালো কথা। কিন্তু……সুন্দর হইয়া উঠিবে।

সারাংশ : জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার প্রধান উপায় হলো কঠোর পরিশ্রম। সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করার দৃপ্ত চেতনাই পারে জীবনকে সার্থক করতে। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দানবটির বিনাশ সাধনই জীবনের সার্থক ও সুন্দর সূর্যোদয় ঘটাতে পারে।

৯। নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকিত? ……দেওয়াও একটা মস্ত কাজ।

সারাংশ : মানবজীবনকে সুন্দর, সফল ও গৌরবময় করার জন্য নিন্দা বা সমালোচনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো কাজ, উত্তম গ্রন্থ, মহৎ ধর্মচর্চা- সব কিছুই নিন্দার কষ্টিপাথরে যাচাই করে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নিন্দা সহ্য করার মধ্যে গৌরব নিহিত। কারণ নিন্দা যেমন দোষীকে সংশোধনের সুযোগ দেয়, তেমনই মহত্ত্বের গৌরবও প্রকাশ করে।

১০। আমার একার সুখ, সুখ নহে ভাই……এসো বন্ধু, এ জীবন সুমধুর করি।

সারমর্ম : অন্যকে সুখ দিতে পারলেই প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যায়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে অন্যের সুখ-দুঃখকে নিজের করে নিতে পারলেই এ সংসারে প্রকৃত সুখের স্বাদ পাওয়া যায়। প্রকৃত সুখ স্বীয় জীবন ভোগে নয়, সবাইকে নিয়ে হৃদয়-বিনিময়ে।

১ কী অসীম তোমার করুণা! তুমি আমাদেরকে সৃষ্টির সেরা মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছ এবং অন্যান্য প্রাণী ও পদার্থকে আমাদের অধীন করে দিয়েছ। তোমার চন্দ্র সূর্য প্রতিদিন ভৃত্যের মতো আমাদের আলো দান করে। তোমার বায়ু আমাদের শরীর জুড়ায় এবং তোমার নদী আমাদের তৃষ্ণা মেটায়। এই যে চাঁদের আলো, ফুলের হাসি, পাখির গান, এই যে আসমান-জমিনে তোমার এতো শোভা, এত রূপ_এ সমস্তই আমাদের সুখ ও আনন্দের জন্যে। তাই আমরা তোমার কাছে চির কৃতজ্ঞ।
,
সারাংশ : এ বিশ্ব প্রকৃতিতে যা কিছু রয়েছে সবই মহান আল্লাহ্র সৃষ্টি। তিনি সবকিছুই মানুষের সুখ, শান্তি ও আনন্দের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই আল্লাহ্র কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

courtesy: zakir’s bcs special

[X]
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *