Home / BCS Tips / টিএসসিতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে সুশান্ত পালকে

টিএসসিতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে সুশান্ত পালকে

সুশান্ত পালকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে সব শিক্ষার্থীদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। সুশান্ত পালের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষমা চাওয়াকে মেনে নেয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্র্যাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অশালীন ও মানহানীকর লেখা প্রচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আঘাত করেছে সুশান্ত পাল। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলীর কাছে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘ফেসবুকে ক্ষমা চাইলে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে সব শিক্ষার্থীদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রহিম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যা-ই করিনা কেন বিকারগ্রস্ত সুশান্ত পাল তাতে কান দিবে না। ও ওর মতো একগুঁয়েমি করেই যাবে। বিকারগ্রস্ত সুশান্ত উল্টা পালটা লিখছে। কাজেই আমাদের সবার উচিত ওর ক্ষমা চাওয়ার পোস্টে কমেন্ট করা। তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’

নয়ন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঢাবিতে দাদাগিরি করতে না পেরে বেচারার মাথার তার ছিড়া গেছে। তার ছেড়া মানুষ সভ্য সমাজে থাকুক প্রকৃতি তা চায় না। তাই দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ও বিশেষ করে মেয়েদের নিয়ে অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যে করায় শুক্রবার থেকেই সরগরম ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় সুশান্তকে নিয়ে সামলোচনায় মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাকে নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না।

সমালোচনার তুপের মুখে পড়ে সুশান্ত পাল ক্ষমা চেয়েছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ক্ষমা চেয়ে তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমি যা লিখেছি, তা লেখা আমার ঠিক হয়নি- এটা খুব ভালোভাবে বুঝে লেখাটি সরিয়ে ফেলেছি। আমি না বুঝে ভুল করেছি। যারা আমার লেখায় মনে কষ্ট পেয়েছেন, বিরক্ত বা বিব্রত হয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন ভুল হবে না, কথা দিচ্ছি।’

 

শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক চঞ্চল বলেন,  ‘এমন পোস্ট সুশান্ত পালের নতুন কৌশল। ওর কপালে খারাবি আছে। ওনার সম্ভবত আরো বেশি সেলিব্রেটি হওয়ার টার্গেট ছিল। ভুল জায়গায় চাল দিয়ে সুশান্ত ভুল করে ফেলেছে।’

বিসিএস গ্রুপের এডমিন প্যানেল থেকে সুশান্ত পালকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাবি শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঢাবি প্রক্টর স্যারকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নির্লজ্জ মিথ্যাচার কেন মানব? এর শাস্তি না পেলে অন্য অনেকেই সাহস পাবে। টিএসসিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। আমাদের প্রাণের ‘ঢাবি’ কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা লেখার যে দুঃসাহস করেছো তাতে তার শাস্তি পেতেই হবে। এই ঔদ্ধত্যের জবাব দিতেই হবে।

 

তারা আরো জানান, ‘তার মতো ক্যাডার তো ঢাবি থেকে প্রতি বিসিএসে হাজার হাজার বের হয়। বিসিএসে প্রথম তো বেশিরভাগ ঢাবিরই। এরকম আবালপানা তো কেউ করে না।’

এদিকে সুশান্ত পালের কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ভিসি চত্বরে মানববন্ধনের ঢাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *