Home / News / জোট চাঙ্গা করার উদ্যোগ

জোট চাঙ্গা করার উদ্যোগ

আন্দোলনমুখী হওয়ার পরিকল্পনা সামনে রেখে জোট চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিএনপি ও জোট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে ‘জনসম্পৃক্ততামূলক’ কর্মসূচি নির্ধারণ ও জোট ভাঙনের ‘অব্যাহত তৎপরতার’ বিপরীতে বন্ধন আরো সুদৃঢ় করার বিষয়টি বৈঠকের মূল এজেন্ডা। এর বাইরে আগামী ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপিঘোষিত জনসভায় কর্মসূচির বিষয়ে পরামর্শ নেয়া হবে জোট নেতাদের।

জোটের নেতারা মনে করছেন, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের দাবিতে বড় আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুতির জন্য এখনই মাঠের কর্মসূচিতে মনোযোগী হতে হবে। সেই লক্ষ্যে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াও মাঠে নেমে নেতাকর্মীদের উদ্দীপ্ত করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

২০১৫ সালের শুরুতে টানা তিন মাসের আন্দোলনের পর এখন পর্যন্ত হরতাল-অবরোধের মতো বড় কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। সরকারও গত দেড় বছরে এ জোটকে তেমন কোনো স্পেস দেয়নি। সমাবেশের মতো দু-একটা কর্মসূচি খোলা ময়দানে করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। বিএনপি এককভাবেও কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি রাজপথে। সব কর্মসূচি ইনডোরে পালন করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জানা গেছে, হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে এই মুহূর্তে কোনো আগ্রহ নেই বিএনপির। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া নিজেই গত সপ্তাহে দলীয় এক ফোরামে বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আবারো শক্ত কর্মসূচিতে যাব, তবে তা এখনি নয়। আপাতত জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে মনোযোগী হতে হবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান নয়া দিগন্তকে বলেছেন, বিএনপিকে দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। সরকার ন্যায্য দাবির প্রতি কর্ণপাত না করলে বিএনপি সঠিক সময়ে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। তিনি বলেন, বিএনপি দ্রুত দল গোছাচ্ছে। এর নিশ্চয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। সরকার ইচ্ছেমতো এমনি এমনি সব করে ফেলবে তা তো হতে পারে না। জনগণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতীক্ষায় আছে। বিএনপি জনগণের সেই চাওয়া পূরণে মাঠে নামবে।

বিএনপির এক নেতা গতকাল বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বিএনপিই নয়, পুরো জোটকে চাপে রাখতে নানা তৎপরতা আবারো শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই কাটাছেঁড়া করছে। জোটের অন্য শরিক ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপি, জাগপাতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, এই অপচেষ্টা আরো সক্রিয় হবে। এসব বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য তাগাদা দিতেই জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

জানা গেছে, জোটকে সক্রিয় রাখতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেশ কিছু দিন ধরেই নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি দলের নেতাদের সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকও করেছেন তিনি। সামনের দিনগুলোতে প্রতি মাসে জোটের মহাসচিব পর্যায়ে অন্তত একটি বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, জোটের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে বেড়েছে। বেশ কিছু ইস্যুতে আগামী দিনের কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আর এ কারণে মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক আহবান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে জোটপ্রধান জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন।

বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ে কোনো বৈঠক হচ্ছে না। জোটগত রাজনীতির স্বার্থেই মহাসচিব পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা হওয়া উচিত, আর সেই কারণেই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচন কমিশন যাতে সরকার একতরফাভাবে নিজেদের ইচ্ছে মতো করতে না পারে সে জন্য সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সেই ল্েয মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিতে মনোযোগী হতে হবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়া দেশের সব বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের ওপর দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করবেন।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *