Home / News / জামায়াত নিয়ে একি বললেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির মকবুল আহমাদ

জামায়াত নিয়ে একি বললেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির মকবুল আহমাদ

জামায়াতে  ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির মকবুল আহমাদ বলেছেন, নিঃসন্দেহে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশ ও জাতির জন্য বিরাট গৌরবের। মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন সবাই দেশ ও জাতির একান্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

শুক্রবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মকবুল আহমাদের কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি লিখিত উত্তর বার্তাবাহকের মাধ্যমে পৌঁছে দেন। এ ছাড়া তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনেও কথা বলেন। স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের আন্তরিক সম্মান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে আওয়ামী লীগের ধাপ্পাবাজির রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। কারণ যে দুটি প্রধান কার্ড ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় আসে ও টিকে থাকার চেষ্টা করে, সে দুটি কার্ড তাদের পক্ষে আর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাববার আগে আওয়ামী লীগকে তাদের নিজেদের দল ও অঙ্গসংগঠনের ব্যাপারে ভাবতে হবে। অবাধ লুণ্ঠন ও দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়ে কোটি কোটি মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত, মানবাধিকার হরণ, গণতন্ত্র হত্যাসহ নানা অপকর্মের জন্য তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বেশি।

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা— জানতে চাইলে মকবুল আহমাদ বলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা ছিল অনেক ডান-বাম সংগঠনের মতো একান্তই রাজনৈতিক। তার পরও জামায়াতকে সে সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার জন্য কোনো বক্তব্য দিতে হলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় তা আলোচনা করতে হবে। আমরা সেই পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। আমাদের সব অফিস বেআইনিভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ আইন বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। দলীয় ফোরাম, জোট ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

প্রকাশ্য কর্মসূচিতে জামায়াত কবে আসবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়াসহ পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম আগের মতোই চালু করতে চাই। জামায়াতকে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সরকারের অনেক নেতা-মন্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াত জিরো টলারেন্স অবস্থানকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। আর জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদ বলে যারা অন্যের ওপর দোষ চাপায়, তারাই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতা। দলীয় সরকারের অধীন জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে আছি। এটা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। জামায়াতকে নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয় না।

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। দল নিষিদ্ধ হলে নতুন সংগঠন করবেন কিনা— জানতে চাইলে মকবুল আহমাদ বলেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়টি এখনো উচ্চ আদালতে বিবেচনাধীন। আর দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আইনি ও নৈতিক অধিকার সরকারের নেই। নিষিদ্ধ করলে জামায়াত দুর্বল কিংবা শেষ হয়ে যাবে না। বরং আরও শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। ২০-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত থাকবে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে ৪০ বছর আগের ঘটনার বিচার ৪০ বছর পরে হতে পারলে, সদ্য সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত না রাখার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আপনার বিরুদ্ধে (মকবুল আহমাদ) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? জবাবে মকবুল আহমাদ বলেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, রাজাকারের কোন তালিকায় আমার নাম আছে তা সবার আগে জাতির সামনে পেশ করুন। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোকের এ উদ্ভট বক্তব্যের পর দেশ ও বিদেশে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো আদর্শিক ও রাজনৈতিক সমন্বিত ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্যে জামায়াত জাতিধর্মনির্বিশেষে সব মত ও পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *