Home / News / জামায়াতের টাকায় চলছে বিএনপি জোটের ৭ দল

জামায়াতের টাকায় চলছে বিএনপি জোটের ৭ দল

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ছোট ৭টি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর টাকায় চলে বলে অভিযোগ উঠেছে। জোটের প্রধান দলের ভেতর থেকেই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কেউ কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তারা এই অভিযোগ উড়িয়েও দেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ২০ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক লীগ এবং পিপলস লীগের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জামায়াতের টাকায় হয় বলে জোটে গুঞ্জন আছে।

২০ দলীয় জোটের কয়েকটি দল নামসর্বস্ব। এই দলগুলো সাংগঠনিকভাবে দুর্বল এবং সারাদেশে কমিটিও নেই। নিবন্ধনহীন কিছু দলও আছে এই জোটে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এ দলগুলোই মূলত বিভিন্ন সময় জামায়াতের আর্থিক সহায়তা নিয়ে থাকে।

তবে জামায়াতের কাছ থেকে ‘টাকা নেয়ার’ বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি কেউই। অনেকে আকার ইঙ্গিতে তা প্রকাশ করেছেন।

জোটের একটি শরিক দলের মহাসচিব দাবি করেছেন, ২০ দলীয় জোটের ৭টি দল জামায়াতের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়। এটা অনেকেই জানে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ছোটখাট এসব দলের অফিস ভাড়া থেকে শুরু করে অনেক খরচই যোগায় জামায়াত। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, এটা নতুন কিছু না। এ নিয়ে জোটের মধ্যেও সমালোচনা আছে। তবে সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কায় এ নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে চান না।

জামায়াতের টাকায় চলার’ অভিযোগ আছে এমন একটি দলের সভাপতি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সাধারণ সম্পাদক জানান, তার দলের রাজনৈতিক কাজের খরচ দেয় জামায়াত।

সম্প্রতি জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের এক অংশের দাবি, এর পেছনে কাজ করেছে শফিউল আলম প্রধানের জামায়াতপ্রীতি। তিনি জামায়াতের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা নেন বলে অভিযোগ আছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধরনের সভা, সম্মেলন, সেমিনার, মিটিং, মিছিল, অফিস, ভাড়া, সাংগঠনিক খরচ, নেতাদের সম্মানীর প্রয়োজনে ২০ দলের কিছু শরিককে জামায়াত অর্থ সহায়তা দেয়।

আর এ কারণেই জোটের নীতিনির্ধারণী বৈঠক কিংবা অন্য ফোরামেও এ সাত দল জামায়াতের পক্ষে সাফাই গায়। জামায়াতকে জোটের বাইরে রাখতে খালেদা জিয়ার ওপর নানামুখী চাপ বাড়ছে। কিন্তু ওই সাত দল সবসময়ই জামায়াতের পক্ষে কথা বলে থাকে।

এ বিষয়ে নতুন জাগপার সভাপতি এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মেদ বাবলু বলেন, ‘শফিউল আলম প্রধানের জামায়াতপ্রীতি আছে, সখ্য আছে। এজন্যই তিনি মঞ্চে হাজার হাজার মানুষের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি চেয়েছেন। এটা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি চাওয়ার পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে। সেটা আর্থিকও হতে পারে।’

উৎসঃ   purboposhchimb

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *