Home / News / গ্রেফতার আতংকে পরিবারসহ আ’লীগ এমপির গা-ঢাকা!

গ্রেফতার আতংকে পরিবারসহ আ’লীগ এমপির গা-ঢাকা!

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দলীয় কোন্দলের জেরে হামলার ঘটনায় মামলার পর থেকে গ্রেফতার আতংকে স্বজনদের নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ এমপি গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন। তার সঙ্গে তার দুই ছেলে জর্জিয়ার মিলন জুয়েল, জাকির হোসেন রুবেল, জামাতা সাবেক উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম রব্বানী, ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুল ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তাড়াশ সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল সেখ বাদি হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০/১৫জনকে আসামি করে গত ১ অক্টোবর মঙ্গলবার তাড়াশ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি মিলনকে ইন্ধনদাতা ও হুকুমদাতা এবং বাকিদের হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি পরিবারসহ গা ঢাকা দিয়েছেন।

এদিকে মামলা দায়েরের পর তাড়াশে পুলিশি অভিযানে এমপির ভাগ্নে তাড়াশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছেন।

তাড়াশ থানার ওসি এটিএম আমিনুল ইসলাম জানান, তাড়াশের বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কুমার জানান, মামলার কারণে এমপি ও তার আত্মীয়-স্বজন তাড়াশ থেকে সটকে পড়ায় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জামিন নিয়ে ফিরে এলে আবারো নতুন করে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দলীয় কোন্দলের জেরে গত ৩০ অক্টোবর রোববার তাড়াশ উপজেলা আইন-শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল শেখ এবং বারুহাস ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেনের সঙ্গে এমপি মিলন ও তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার পর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হকের ওপর নিজ কার্যালয়ে হামলা চালায় এমপি মিলনের সমর্থকরা। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হক গুরুতর আহত হন।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের গাজী আমজাদ হোসেন মিলন।

২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর ঈদুল আযহার দিন এমপি ইসহাক তালুকদার শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ২৮ অক্টোবর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ১১ নভেম্বর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেন কেবল দুইজন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম মুন্নুর মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় ২২ নভেম্বর সেটি বাতিল করা হয়। ফলে ৩০ নভেম্বর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *