Home / Study tips / খাতার সাথে ৫০০টাকা যুক্ত করে ‘স্যার’কে পাশ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ

খাতার সাথে ৫০০টাকা যুক্ত করে ‘স্যার’কে পাশ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ

উৎকোচে কী না হয়! দাদা-দিদিদের হাত থেকে মাথা নাকি অনায়াসে কেনা যায় ঘুষের টাকায় ! টাকার বান্ডিলটা রেখে যান, বাকিটা দেখে নেব গোছের উত্তর নাকি দিয়ে থাকেন দাদা-দিদিরা। কথায় বলে, আলো-আঁধারিতে কড়কড়ে নোটের হাত চালাচালিতে যে কাজ হয়, আর কোথাও তেমন নয়। ঘুষ আমার ধর্ম, ঘুষ আমার কর্ম-তত্ত্বে বিশ্বাসী যাঁরা, তাঁদের কাছে শত আর্জি, সাষ্টাঙ্গ নমস্কারেও নাকি কাজ হয় না। অগত্যা-চটজলদি কাজ করাতে এই শর্টকাট নেন অনেকেই। আর এ সারসত্যটা দেশের সবাই প্রায় জানে। না হলে কী আর ক্লাস টেনের পড়ুয়া পরীক্ষার খাতার ভাঁজে কড়কড়ে ৫০০ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে তলায় লিখে দিতে পারে-বিয়ের কথা হচ্ছে স্যার। এই ৫০০ টাকা নিন। পাশটুকু করিয়ে দিন।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। প্রদেশের বস্তি জেলায় ক্লাস টেন ও ইন্টারের পরীক্ষার খাতা দেখার কাজ চলছিল জিজিআইসি ইন্টার কলেজে। কনৌজের বাঙ্কেলাল বিহারি ইন্টার কলেজের ক্লাস টেনের পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক। খাতা দেখতে দেখতে চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। উত্তরপত্রে ভুলভাল লেখা। কেউ কেউ তো পাশ করানোর আর্জি জানিয়ে রীতিমতো টাকা সেঁটে দিয়েছে খাতার ভাঁজে। পাশ করানোর আর্জির পাশাপাশি আশ্চর্যরকমের কারণ দেখিয়েছে পড়ুয়ারা। কেউ লিখেছে-সে খুব গরিব তাই তাকে যেন দয়া করে পাশ করিয়ে দেন গুরুজি। কারোর খাতায় আবার লেখা-টুকলি লিখে দেওয়ার জন্য হাজার তিনেক টাকা জোগাড় করে একজনকে দিয়েছিল সে।

কিন্তু হলে কড়া গার্ড থাকায় টুকলি করতে পারেনি। জলে গেছে পুরো টাকা। তাই তাকে যেন পাশ করিয়ে দেওয়া হয়। কেউ তো আবার লিখেছে-পাশ করিয়ে দিন স্যার, আপনার শতায়ু হোক। একজন তো আবার পরিষ্কার লিখে দিয়েছে-বিয়ের কথা হচ্ছে স্যার। ৫০০ টাকা নিয়ে পাশ করিয়ে দিন। সব দেখেশুনে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝে উঠতে পারছেন না পরীক্ষকরা।   তবে তাঁরা একটা কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পঞ্চাশই দাও বা পাঁচশো- ভবি ভোলবার নয়। ঘুষে কোনও কাজই হবে না। খাতায় যে যেমনটা লিখেছে, নম্বরও সে ঠিক তেমনটাই পাবে। তবে তাঁরা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন ওই সব পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। ক্লাস টেনের এক পড়ুয়া পড়াশোনা না করে যদি টাকা দিয়ে পাশ করতে চায়, তাহলে রাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে ? শিক্ষার ভবিষ্যৎই বা কী ? –

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *