Home / Govt Jobs / ৩৫তম বিসিএস: উত্তীর্ণ ৫৫৩৩ জনকেই নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

৩৫তম বিসিএস: উত্তীর্ণ ৫৫৩৩ জনকেই নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

[X]
[X]
[X]

৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৫ হাজার ৫৩৩ জনের সবাই নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। এজন্য সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদের প্রস্তাব পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পাঠানোর নির্দেশনা গত মাসেই দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানোর কাজ প্রায় শেষ। পিএসসি এসব প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। গত ২৮ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় ৩৫তম বিসিএস থেকে উত্তীর্ণ সবাইকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
৩৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ৬ হাজার ৮৮ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৩৩ জন উত্তীর্ণ হলেও পিএসসি ২ হাজার ১৭৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করে গত ১৭ আগস্ট চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। একই ফলে পিএসসি মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারে সুপরিশকৃত নয় এমন ৩ হাজার ৩৫৯ জনের নাম ‘নন-ক্যাডার’ পদে নিয়োগের জন্য প্রকাশ করে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে চায় সরকার। নন-ক্যাডার পদে উত্তীর্ণদের মধ্যে কোটার বিষয়টি আরও শিথিল করার বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ শূন্য পদ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদ শূন্য রয়েছে। সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর থেকে শূন্য পদের প্রস্তাব না দেওয়ায় ৩৪তম বিসিএসে বেশ কিছু উত্তীর্ণ প্রার্থীকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। কিন্তু এবার সচিব সভার সিদ্ধান্তের আলোকে মন্ত্রণালয় থেকে নন-ক্যাডার শূন্য পদের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার সবাইকে নিয়োগ দিয়েও চাহিদা শেষ করা যাবে না।
ইতোমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনও নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করেছে। গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর এই আবেদন গ্রহণ করা হয়।
নন-ক্যাডার চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, সরকার চাইলে জনপ্রশাসনের ৪০ হাজার শূন্য পদগুলোতে ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ সবাইকে চাকরি দিতে পারে। আমরা সরকারের সেই পদক্ষেপের আশায় দিন কাটাচ্ছি।
নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমানে নামে এক চাকরিপ্রার্থী জানান, কেউ সরকারের শূন্য পদগুলো পূরণে আন্তরিক না। আমরা শুনেছি পিএসসি বারবার মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে রিকুইজিশন চাইলেও কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাহিদা পাঠিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি চাকরির এই শূন্য পদগুলো খালি রেখে কার লাভ হচ্ছে? বরং রাষ্ট্রের কাজে প্রত্যাশিত গতিশীলতা আসছে না।
উল্লেখ্য, বিসিএস পরীক্ষায় শতকরা ৫০ ভাগ থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব পর্যায়ে যারা নম্বর পান তাদের পিএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী হিসেবে মনোনীত করে। এখান থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বিসিএস পরীক্ষায় পাস করলেও ক্যাডার সার্ভিসে শূন্যপদ কম থাকায় পিএসসি প্রতিবছর অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে না। ফলে ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগবঞ্চিত বিসিএস পাস এসব চাকরিপ্রার্থীর মধ্য থেকে আগ্রহীদের বিভিন্ন দফতরের প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ২০১১ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নন-ক্যাডার বিধিমালা জারি করা হয়। বিধি অনুযায়ী শূন্য পদের ৫০ ভাগ পদে বিসিএস পাস প্রার্থীকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে। পরে এই বিধিমালা অনুযায়ী নন-ক্যাডার ৫০ ভাগ পদে বিসিএস পাস করা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২৮তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা কার্যকর হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *