Home / BCS Tips / মায়ের আব্দার পূরণে যা করলেন ফরেন ক্যাডার ওয়ালিদ ইসলাম

মায়ের আব্দার পূরণে যা করলেন ফরেন ক্যাডার ওয়ালিদ ইসলাম


মায়ের আব্দার পূরণে যা করলেন ফরেন ক্যাডার ওয়ালিদ ইসলাম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ওয়ালিদ ইসলাম তার ফেসবুকে লিখেছেন,

 

 

“আমার তোর অফিসটা খুব দেখতি ইচ্ছা করে। আমি এট্টু তোর অফিসি আসতি চাচ্ছি। তুই কোন জাগা চাকরি করিস দেখতি পারলি ভাল ঠ্যাকতো।” — আজ তাই মায়ের আব্দারটা ফেলতে পারলাম না। মাকে আমার অফিসটা দেখালাম।

 

 

ওয়ালিদ ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্টের পরে অনেকেই গর্বিত মা ও ছেলের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। এই মেধাবী তরুণের ফেসবুকে দেখা যায় নানা সামাজিক সচেতনতামূলক এবং সাহসী কাজের নমুনা। তেমনি একটি ঘটনা তার ফেসবুক থেকে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

ওয়ালিদ ইসলাম

গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর অনেক জুনিয়র এক মেয়ের সাথে কথা বলছিলাম। মেয়েটা খুব গরীব পরিবারের। তার বাবা আর তার দুলাভাই চায় তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে তাকে আর না পড়াতে। দুলাভাইয়ের সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে পরিবারের উপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে দুলাভাই। দুলাভাই নতুন একটা ছেলে দেখেছে মেয়েটার জন্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম তার দুলাভাইএর পেশা সম্পর্কে। উত্তর দিলো, তিনি ভ্যান চালান। আমি বললাম, “তাহলে তোর জন্য যে ছেলে দেখবে সে বড়জোর ট্রাক চালায়।” মেয়েটা চুপ করে থেকে উত্তর দিলো, “কিছুটা সেরকম, ভাইয়া।” মেয়েটাকে এতই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে যে, অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তাকে রিফান্ডেবল সহযোগিতার জন্য যারা এগিয়ে এসেছিল মেয়েটা তা গ্রহণ করতেও ভয় পাচ্ছিল। কারণ, সে বিয়ে হয়ে গেলে তা কিভাবে শোধ করবে তা ভেবে।

 

আমার নিম্নবিত্ত পরিবারের বাবা-মা যখন স্বপ্ন দেখেছেন তাদের সন্তানেরা বড় হয়ে একদিন এসপি-ডিসি হবে ঠিক তখনই আমার পাশের বাড়ির বন্ধুর বাবা-মাকে স্বপ্ন দেখতে দেখেছি আমার বন্ধুটা আরেকটু বড় হলে তাকে কোন গ্যারেজে দিয়ে এলাকার বড় মিস্ত্রী বানাবে। ওই বন্ধুটার স্বপ্নও তখন ওই গ্যারেজ-লেদ-মিস্ত্রী এগুলোর ভেতরই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতেও দেখেছি। এটাই হয়তো তার ভাগ্যে ছিল।

 

আমি কোন রিক্সাচালক বা নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে কথা বলি তাদের পারিবারিক গল্পগুলো নিয়ে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের দাদা-পরদাদা অনেক ধনী কেউ ছিলেন। ভাগ্যের কারণে আজ হয়তো তিনি রিক্সা চালাচ্ছেন।

এবার প্রথম মেয়েটার কথায় আবার ফিরি। মেয়েটার আজ যদি বিয়ে হয়ে যায় তার জীবনে যে দারিদ্র‍্য আর দুঃখটা নেমে আসবে একদিন হয়তো সে আর তার পরিবার ভাগ্যকেই দুষবে। ঝরেপড়া দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাগুলোর সাথে কথা বলে যেটা বুঝতে পারি তাদের জীবনে কোন স্বপ্ন নেই। সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা যে দেখে সে বাংলা সিনেমার নায়ক/নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখেছে। আশ্চার্যান্বিত হয়ে দেখেছিও সে তার প্রিয় অভিনেতা/অভিনেত্রীকে কিভাবে নকল করতে পারে। অর্থ্যাৎ, সে কিন্তু অমেধাবী নয়। কিন্তু, স্বপ্নও দেখতে জানেনা।

 

 

জাবি ক্যাম্পাসে আমি কতগুলো পথশিশুকে পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তাদের স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে চাদা তুলে তাদের প্রত্যেককে ৭ টা কাপ, একটা ফ্লাস্ক একদিনের মূলধন দিয়েছিলাম। তাদের ভেতর দুজন এবার জাবিতেই ভর্তি হলো। এখাতিরে আমি কিছুটা সফল হবার কারণ ছিল আমি সারাদিন তাদের স্বপ্নগুলো শুনতাম, ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে বড় করতে বলতাম, তাদের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বোঝাতাম। তারাও স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল।

দেশের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে দিনদিন। কিন্তু, নিম্নবিত্ত মানুষের ভেতর স্বপ্নের অভাব। এই স্বপ্ন তাদেরকে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি আমরা। চাবাগানে বেড়াতে গিয়ে দেখেছি শ্রমিকদের সব স্বপ্ন চাবাগানকে কেন্দ্র করেই। এর বাইরে যে জগৎ তা নিয়ে তারা শুনলেও সে জগৎ দেখার ইচ্ছেটাই আছে, কিন্তু, তা নিয়ে কোন স্বপ্ন নেই।
তথ্য আর স্বপ্নের সল্পতার কারণেই নিম্নবিত্তদের ভাগ্য তাদের সাথে শুধু প্রতারণাই করে।

 

 

ঠিক করেছি জানুয়ারি থেকে একটা স্কুলে গিয়ে সময়ের ফাকে ক্লাস নেব মাঝে মাঝে যা পথশিশুদের স্কুল। সেখানে তাদের ক্লাসটা নেব তাদের স্বপ্ন দেখা শেখানোর জন্য, তাদের ছোট স্বপ্নকে বড় করার জন্য। অন্তত কিছু ছেলেমেয়েকে যেন ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share