Home / BCS Tips / বিসিএস পরীক্ষায় সফল হতে ১০টি কৌশল অবলম্বন করুন

বিসিএস পরীক্ষায় সফল হতে ১০টি কৌশল অবলম্বন করুন


জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়ের  মধ্যে অন্যতম বিষয় জ্ঞানচর্চা। জ্ঞানকে ধরে রাখতে হলে একে সহজভাবে মনের ভেতর ধরে রাখা চাই। ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পরীক্ষা দেয়া, এবং ভালো ফল করা। বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য এটা বেশ গুরুত্বপূর্ন। আর বর্তমানের যুগে ভালো ফল করাটা তো অত্যাবশ্যকীয়। কেননা তার ওপরেই নির্ভর করে আপনার কর্ম জীবন এবং উজ্জল ভবিষ্যৎ সেই সাথে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ আর শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি সম্ভব নয় । নিজের স্বাভাবিক মেধার সাথে কিছু কৌশল অবলম্বন করে, একটি সুনির্দিষ্ট ছকে লেখা পড়ার বিষয়টি গুছিয়ে নিতে পারলেই হয়। আমরা অনেকেই নিজের মেধার সঠিক ব্যবহার করতে পারিনা লেখাপড়ার ক্ষেত্রে। আসুন জানা যাক , বিসিএস পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে ১০টি পরিক্ষিত কৌশল ।

১. আগ্রহ গড়ে তুলতে হবে

পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কৌশল কোনো ব্যাপক বিষয় নয় বরং যে বিষয়টি বা বিষয়গুলো আপনাকে পড়তে হচ্ছে প্রথমেই সে বিষয়টি বা বিষয়গুলোর প্রতি আপনার আগ্রহ গড়ে তুলুন।

 

২. নোট  করার প্রয়োজনীয়তা

নোট তৈরি করা খুব ভালো অভ্যাস এবং এটি একাধারে আপনার পাঠে মনোযোগ বাড়াবে। নোট পড়ে একটি বা একাধিক বিষয়ে একবারে জানা যায় এবং মনে রাখা যায়। এগুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে খুব ভালো ভূমিকা রাখে। এটি প্রধান চিন্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সাহায্য করে। বিষয়টিকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে নোটের খুব ভালো ভূমিকা থাকে।

 

৩. কিভাবে নোট তৈরি করবেন

নোট তৈরির ব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ…সহজবোধ্য এবং আপনার মনোযোগ আকর্ষণকারী শব্দ দ্বারা নোট তৈরি করুন।…নোট যেন সহজ ও সুপাঠ্য হয়।…অত্যন্ত জটিল শব্দ নোট তৈরি করতে  ব্যবহার না করাই ভালো।…কয়েকটি সহজবোধ্য পয়েন্টস দিয়ে নোট তৈরি করুন।

 

৪. আয়ত্ব করতে পুনর্বার পড়া

পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা এবং স্মরণ রাখা উচিত, সেই বিষয়ে পুনর্বার পড়া উচিত। মনোবিজ্ঞানী ডেভিস এবং মুরের মতে, প্রত্যেক বিষয়কে ধীরস্থিরভাবে দুই থেকে চার বার পড়া উচিত এবং পুনর্বার পড়া উচিত। এতে করে বিষয়টি সহজে আয়ত্ব হবে এবং ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হবে।

 

৫. পরীক্ষার কেন্দ্রে আত্ম বিশ্বাস বজায় রাখা

মানসিক দৃঢ়তা – অনেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ফলে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তর দিতেও তারা ব্যর্থ হয়। অথচ পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিক একাগ্রতা তীব্রভাবে ধরে রাখা উচিত। মনে রাখা উচিত আমার প্রস্তুতি সফল এবং আমার পরীক্ষাও সফল হবে।

 

৬. প্রশ্নপত্র পড়া

পুরো প্রশ্নপত্রটি একবার ভালো করে পড়ে নিতে হবে। কেবল চোখ না বুলিয়ে বরং ভালো করে প্রশ্ন পড়ার মাঝে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। যে প্রশ্নকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে কখনোই বর্ণনা দেয়া উচিত হবে না। এতে করে উত্তরের মান কমে যায় এবং পরীক্ষায় নম্বর কমে আসে।

 

৭. সঠিক ভাবে উত্তর করা

সহজ-সরল এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। যে প্রশ্নকে অপেক্ষাকৃত কঠিন মনে হয় সেগুলোকে পরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রশ্নে ঠিক যেমনভাবে উত্তর চাওয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে উত্তর দিন। ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে উত্তরের মান ভালো হলো না এটি ভুল ধারণা।

 

৮. সময়ের সঠিক ব্যবহার

পরীক্ষায় সময়ের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন শেষ করার জন্য মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, ফলে উত্তর ভালোভাবে দেওয়া হয় না বরং সময়কে নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে আগাগোড়া সময়ের ব্যবহার করে পরীক্ষা দিন। একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য কখনোই বেশি সময় ব্যয় করা উচিত নয়।

 

৯. ব্যায়াম

শরীরচর্চার সঙ্গে শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। পরীক্ষায় ভালো ফল এনে দিতে পারে শরীরচর্চা। ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে ভালো ফল করে থাকে ব্যায়ামে অভ্যস্ত কিশোর-কিশোরীরা। বিশেষ করে মেয়েদের বিজ্ঞানভীতি দূর করার শক্ত হাতিয়ারও হতে পারে এটা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি গবেষণায় এর সত্যতা পাওয়া গেছে। গবেষণায় ছেলেদের দিনে কমপক্ষে ১৭ মিনিট এবং মেয়েদের ১২ মিনিটের ব্যায়াম  করা মঙ্গল বলে জানানো হয়েছে। শরীরচর্চা কেবল ১১ বছর বয়সী শিশুদেরই লেখাপড়ায় উন্নতি করে না, ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের লেখাপড়ায়ও এর সুফল এনে দেয়। লেখাপড়ায় ভালো করার জন্য দিনে ৬০ মিনিট করে ব্যায়াম করা উচিত।

 

১০. খাবার

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতের সাথে সাথে খাবারের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিৎ কারণ খাবার খুব বেশি পরিমাণ গ্রহণের ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে আবার কম খেলেও শরীরের দুর্বলতার কারণে লিখতে সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নবান হতে হবে।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না বরং স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা এবং পরীক্ষার যথাযথ মোকাবিলা করলে আর মনোবল ধরে রাখলে সাফল্যের দুয়ারে পৌছানো যায় নিশ্চিত ভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share