Home / BCS Tips / বিসিএস ক্যাডার : বদলে গেল ভার্সিটির সেই আতেল ছেলেটি!

বিসিএস ক্যাডার : বদলে গেল ভার্সিটির সেই আতেল ছেলেটি!


নাহিদ হাসান নিপু : বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন একজন বন্ধু আছে যাকে কেউ কখনো পাত্তা দিত না। বন্ধুমহল ও ক্যাম্পাসে সাধারণত আতেল বলে পরিচিত সে ছেলেটি। মুখ বুঝে থাকতো। চরম প্রয়োজন ছাড়া কারও সাথে কথা বলার কোন চিন্তাও যার মাথায় আসতো না। আত্মীয়স্বজন অনেকে তাকে বলেই রেখেছে তোকে দিয়ে কিছুই হবেনা।

ছেলেটি তার ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র একটি মেয়েকে দেখার জন্য প্রতিদিন ক্যাম্পাসের কোন না কোন স্থানে রোজ দাড়িয়ে থাকতো। অথচ মেয়েটি এসব জানার পরেও কখনো সে দিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি। ছেলেটি তার ভালবাসার কথা জানাতে চিঠি লিখে উল্টো ক্ষ্যাত উপাধি পেয়েছে।

শুনেছে আগে মানুষের মতো দেখতে হও, তোমাকেতো দেখতে মানুষই লাগে না- পুরো হনুমান। কি যোগ্যতা আছে আমার সাথে প্রেম করার? বন্ধুরা ছেলেটিকে ক্ষ্যাপাতো বেকডেটেড গাইয়া বলে। ছেলেটি এদের সবার কথায় কমবেশি কষ্ট পেতো। রোজ অল্প অল্প করে অভিমানও করতো কিন্তু তার কিছুই বলার ছিলনা।

কারণ সে যে এমনই। তার চারপাশের দুনিয়া আর সে যে সম্পূর্ণ আলাদা। তার অনেক বন্ধুর কয়েকটা করে গার্লফ্রেন্ড, কারণ তারা অনেক স্মার্ট! কিন্তু সে গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেছে, সারাজীবন কেটেছে অভাব অনাটন ও ক্রাইসিসে। তাই সে এটাকেই মানিয়ে নিয়েছে, সে এমন থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর সে কখনো তাদের মতো স্মার্টও হতে চাইনি।

টিউশনি করে সে তার খরচ চালাতো। বাবা বৃদ্ধ, কে দেবে তার খরচ? বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় তার বাবা-মা গ্রামে ঘুরে ঘুরে কয়েকজনের কাছে টাকা সাহায্য নিয়ে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিল। জামা কাপড় বলতে ছেলেটির একটি পোশাকই ছিল। পুরো দুই বছর তাকে ক্যাম্পাসে একই ড্রেসে ঘুরে ফিরে দেখা গেছে। আর জুতা সেটার কথা নাই বা বললাম। সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে আবার না ঘুমিয়ে ছেলেটি পড়াশোনা করতো।

ছেলেটির ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিলো পুলিশ কর্মকর্তা হবে। বিসিএস পরীক্ষা দিল, প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত টিকলেও ভাইভায় বাদ পড়ে গেল। এভাবে ৩ বার সে বিসিএস পরীক্ষা দেয়। হাল ছাড়েনি সে। ৩য় বার সে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়। এবার পুলিশের এএসপি পদে সুপারিশ পেয়েছে সে।

সবার কাছে আতেল অযোগ্য ছেলেটি এখন বাংলাদেশ পুলিশের একজন বড় কর্মকর্তা। ট্রেনিং শেষে সে এখন তার কর্মস্থলে যোগদান করেছে। তার চারপাশের দুনিয়া বদলে গেলে মুহুর্তেই। যে মেয়েটি তাকে কখনো পাত্তা দিতোনা সে কোথা থেকে যেনো শুনে এবার নিজেই তার ফোন নাম্বার ম্যানেজ করে মেসেজ পাঠালো কনগ্রাচুলেশন ভাইয়া। যে বন্ধুরা গায়ে ঘেসলেও কখনো কথা বলতো না তারাও এসে বলে তুই আমার অনেক আপন বন্ধু। কত দোয়া করেছি তোর জন্য।

যে আত্মীয়স্বজন তাকে দেখতে পারতো না তারাই এখন ফোনে তার নম্বরটি বড় করে সেইভ করে রাখলো। অন্যদের সাথেও তার গল্প দিয়ে অনেক ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করে তারা ।

এটাই হলো আমাদের সমাজব্যবস্থা ও পৃথিবীর নিয়ম। বাস্তবে আমরা সবাই স্বার্থপর, যত ভালবাসা- যত প্রেম সবকিছুর মধ্যেই স্বার্থ অন্তর্নিহিত। আপনি সফল হবেন পুরো দুনিয়া আপনার সাথে থাকবে। আপনার যখন ক্ষমতা থাকবে পুরো দুনিয়া আপনাকে পূজা করবে। আবার ঠিক যখন এর বিপরীত হবে তখন পৃথিবীর চরিত্র পুরো পাল্টে যাবে।

নাহিদ হাসান নিপু
(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share